2019/03/20
ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা
জীবনাচার ও নারীর মানসিকস্বাস্থ্য
নারীর মানসিক সমক্ষমতা বলতে বোঝায় একজন নারী তার সক্ষমতা আর দুর্বলতাগলো বুঝতে পারেন, সমাজে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন। নারীর মানসিক সক্ষমতা অর্জন করবার জন্য নারীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শরীর ও মনের যত্ন নিতে হবে- পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, প্রযোজনীয় বিশ্রাম আর বিনোদনের সুযোগ থাকতে হবে।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনাচারে নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমাদের আচরণ গুলো নারীর মনের উপরে কিন্তু প্রভাব ফেলতে পারে। একজন নারীর সাথে কি ধরণের আচরণ করা হচ্ছে , তাকে কিভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং অনেক সময় তার প্রতি কি মন্তব্য করা হচ্ছে তার আচরণকে কিভাবে ব্যাখা করা হচ্ছে সেটার উপর তার মানসিক প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে।
নারীর প্রতি বৈষম্য, অবহেলা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে তার মানসিক সমস্যা হতে পারে। এজন্য দৈনন্দিন জীবনে নারীর প্রতি আচরণে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নারীর প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন, তাকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, পরিবার ও সমাজে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
একটি সমাজ নারী এবং পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে যায়। পুরুষেরা যদি নারীর প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল হন এবং তারা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ করতে সক্রিয় হন তবে নারীর মানসিক সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্য সমাজের সকলেরই নারীর প্রতি দৃষ্টিভংগি ও আচরণের পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
‘মেয়েদের শারীরিক গঠন পুরুষদের মতো সুঠাম ও পেশিবহুল হবে না। তাই মেয়েদের বেশি প্রোটিন খাবার দরকার নেই।’ এমন ধারণা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এখনো রয়ে গেছে। কথাটা ঠিক নয়। ‘ডায়েটারি গাইডলাইন অব আমেরিকা’ বলছে, ১৩ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর প্রোটিনের চাহিদা সমান—দৈনিক প্রায় ৩৪ মিলিগ্রাম। তাই মাছ-মাংসের বড় টুকরো, দুধ-ডিম ছেলেমেয়ে-নির্বিশেষে সমানভাবে প্রয়োজন। বরং কিছু খনিজ উপাদান ও ভিটামিনের চাহিদা মেয়েদের বেশি। একটি কিশোরীর দৈনিক ১৫ মিলিগ্রাম আয়রন খেতে হবে, কিশোরের লাগবে ১১ মিলিগ্রাম। গর্ভধারণ ও স্তন্যদানের সময় প্রোটিন ও খনিজের চাহিদা আরও বেশি থাকে। অল্প বয়সে যথেষ্ট ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি গ্রহণ না করার কারণে পরবর্তী জীবনে মেয়েরা হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসে ভোগে বেশি। তাই দুধের পেয়ালা রোজ মেয়েটিরও চাই। ভিটামিন ডি আছে সূর্যালোকে। মেয়েদের তাই বাইরে খেলাধুলাও করা দরকার। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোকের হার নারী-পুরুষ উভয়ের প্রায় সমান। এগুলো ঠেকাতে নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটা, জগিং নারীদেরও আবশ্যিক।
নারীর মানসিক স্ব্যাস্থ্যের যত্নের জন্য যা যা করণীয় :
- প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন
- খোলা আকাশের নিচে সবুজ পরিবেশে প্রকৃতির মাঝে রোজ কিছু সময় কাটান
- স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান, অহিতকর খাবার এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করুন
- পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। ভালো বন্ধু গড়ে তুলুন
- ভালো বিনোদনমূলক কাজের অভ্যাস গড়ে তুলুন; যেমন—বাগান করুন, পশু-পাখি পুষতে পারেন বা নাটক দেখতে যেতে পারেন
- বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
- পছন্দের গান শুনুন
- চমৎকার একটি লম্বা গোসল দিন
- ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন, যত কাজের চাপই থাকুক, পর্যাপ্ত ঘুমের বিষয়ে আপস করবেন না
- মনের কথা বিশ্বস্ত কাউকে খুলে বলুন।
এসবই চাপ কমাতে সহায়ক, তা পরীক্ষিত সত্য।
এই অভ্যাসগুলো বাদ দিনঃ
- ঘন ঘন চা বা কফি পান করা
- মোবাইল ফোনে আসক্তি
- ইন্টারনেট এ আসক্তি
- ধূমপান
- মদ্যপান বা মাদক দ্রব্যের অপব্যাবহার
- রাত জেগে টেলিভিশন দেখা
- অকারণে সবার সঙ্গে মেজাজ করা ও রাগ দেখানো
- ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমানোর অভ্যাস
- নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া