ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউ-েশন ( আই ডাব্লিউ এফ )

ঠিকানা : কে - ৩৬, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, মোহাম্মদপুর ঢাকা ১২০৭

ফোন : ০১৭২৬ ৪২৭২ ১৯, ০১৭৪১৭৪০৪৪৬।

নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট (এনপিইউ), ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঠিকানা: কক্ষনং : ৫০১৭, ৪র্থ তলা, কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সময়: শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা।

শনিবার শুধুমাত্র শিশুদের সেবা দেওয়া হয়।

সেবা গ্রহীতা: শিশু থেকে বয়স্ক।

সেবার ধরণ: সাইকোথেরাপী এবং কাউন্সেলিং।

যোগাযোগ: ০১৭৫৫৬৫৪৮৩৫।

ফিস: একক সেশন ৪০০ টাকা, গ্রুপ সেশন: ১৫০/ টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএসএমএমইউ)

ঠিকানা : শাহবাগ, রমনা, ঢাকা।

সময়: শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা।

সেবা গ্রহীতা : শিশু থেকে বয়স্ক।

সেবার ধরণ: সাইকোথেরাপী ও কাউন্সেলিং।

ফিস: বহির্বিভাগে ১০/ টাকার টিকেট কাটতে হয়, পরবর্তীতে একক সেশন : ৩০০/ টাকা 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাাতাল, (ডিএমসিএইচ)

ঠিকানা : বকশীবাজার, রমনা, ঢাকা।

সময়: শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২: ০০টা।

সেবা গ্রহীতা: শিশু থেকে বয়স্ক।

সেবার ধরণ : সাইকো থেরাপী ও কাউন্সেলিং।

ফিস:  বহির্বিভাগে ১০/টাকার টিকেট কাটতে হয়।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, (ও সি সি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,

(ডিএমসিএইচ)

ঠিকানা : ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বকশীবাজার, রমনা, ঢাকা।

সেবা গ্রহীতা: নির্যাতিত নারী ও শিশু। সেবা নেয়ার জন্য প্রথমে ভর্তি হতে হবে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভর্তির কাগজ দেখিয়ে সেবা নেওয়া যাবে।

সেবার ধরণ : কাউন্সেলিং,

যোগাযোগ: ০১৭১৩৪২৩২৯০।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল (এন আই এম এইচ)

ঠিকানা : শেরেবাংলা নগর ঢাকা (শিশু মেলার পাশে)।

সময়: সকাল ৮:৩০ থেকে দুপুর ২টা।

সেবা গ্রহীতা : মানসিক রোগী।

সেবার ধরণ: মানসিক রোগ চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং।

ফিস : বহির্বিভাগে ১০/ টাকার টিকেট কাটতে হয়।

যোগাযোগ : ফোন : ০২৯১১১৩৬২, ০২৯১১৮১৭১, মোবাইল: ০১৭৩০৩৩৩৭৮৯।

ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঠিকানা : ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র ( টিএসসি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সময় : শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।

সেবা গ্রহীতা: শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।

সেবার ধরণ: কাউন্সেলিং।

যোগাযোগ: ০২৯৬৬১৯২০-৭৩, এক্সটেনশন-৪২০৩।

ফিস : ফ্রি সেবা।

জাতীয় মানসিক হাসপাতাল, পাবনা

ঠিকানা : হেমায়েতপুর, পাবনা।

সময়: সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২:৫০ পর্যন্ত।(টিকেট দুপুর ১:০০ পর্যন্ত)।

সেবা গ্রহীতা : সব ধরনের মানসিক রোগীদের এবং মাদকাসক্ত পুরুষদের সেবা দেয়া হয়।

বয়স সীমা: ১৮ থেকে ৫০ বছর।

জাতীয় ট্রমা সেন্টার

ঠিকানা : ২২/৮, ব্লক বি মিরপুর রোড, শ্যামলী, ঢাকা।

সেবা গ্রহীতা : প্রাপ্ত বয়স্ক।

সেবার ধরণ : কাউন্সেলিং।

যোগাযোগ : ৮১১৬৯৬৯, ৮১৩০৫০৮,৯১৪৬৫৪৩ এবং ফ্যাক্স : ৬৫৫৮৯।

এডুকেশনাল এন্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ, (ডিইসিপি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঠিকানা: ৫ম তলা, কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,

সময়: শনি-বৃহস্পতি সকাল ৯;০০টা থেকে বিকেল ৫:০০টা,

সেবাগ্রহীতা শিশু থেকে বয়স্ক।

সেবার ধরণ : কাউন্সেলিং।

যোগাযোগ: ০১৯৬৭৮৬৭৯৩৩।

ফিস- শিশুদের জন্য : ৮০০/ বয়স্কদের জন্য: ৬০০/ টাকা।

শারীরিক সমস্যার জন্য যেমন ডাক্তার আছেন, তেমনি মানসিক সমস্যার সমাধানের জন্যও আলাদা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। দাঁতে ব্যথা হলে ডেন্টিস্ট, হাড়ে ব্যথা হলে অর্থোপেডিক্স চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তেমনি মানসিক সমস্যার জন্যও আলাদা বিশেষজ্ঞ দল রয়েছেন।

যত তাড়াতাড়ি মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা চিহ্নিত করা যায় এবং তা থেকে আরোগ্যের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাহায্য নেওয়া যায়, তত তাড়াতাড়ি মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। এখানে পেশাজীবী মানসিক স্বাস্থ্য সেবাদানকারীর যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি যিনি মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগছেন, তার নিজের ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগ এবং তার পরিবারের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবরাও শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

যে কোনো চিকিৎসার উদ্দেশ্যই হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোগমুক্ত করে তাঁর সুস্থ-সবল জীবন ফিরিয়ে দেওয়া। অনেক রোগ আছে, যা নিয়েও আমরা সারাজীবন সুস্থভাবে কাটিয়ে দিতে পারি; যেমন, ডায়াবেটিসের মতো রোগের চিকিৎসায় সামান্য ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়; ক্যানসার, এইচআইভি-এইডস-এর মতো কঠিন রোগে চিকিৎসার সাহায্যে তুলনামূলক সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব হয়।

মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, এর পর্যায়, রোগ নির্ণয়ের সময় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি, তার পরিবার ও আশেপাশের মানুষদের সহযোগিতার ওপর। অনেক মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা আছে, যা শুধু জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে ঠিক করা সম্ভব। আবার সেই সমস্যাই যদি দিনের পর দিন ফেলে রাখা হয়, তবে তার চিকিৎসা অনেক জটিল হয়ে পড়তে পারে। যেমন মানসিক চাপ যখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন তার জন্য চাপ ব্যবস্থাপনা কৌশল ব্যবহার করতে হয়। এটি মানসিক চাপে থাকা একজন ব্যক্তি শিখে নিলে তা সে নিজে নিজে প্রয়োগ করতে পারে। অন্যদিকে, এই মানসিক চাপ বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতার মতো মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা তৈরি করতে পারে, যার জন্য তাকে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পেশাজীবী, যেমন কাউন্সেলর বা সাইকোথেরাপিস্ট-এর শরণাপন্ন হতে হয়। আবার এই বিষণ্ণতা প্রাথমিক পর্যায়ে নিবারণ করা না হলে, এটির জন্য ওষুধ সেবন করার দরকার হতে পারে। এমনকি এজন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হতে পারে। তাই দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা চিহ্নিত করা ও তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে যেমন চিকিৎসার মেয়াদ ও চিকিৎসাব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়, তেমনি ব্যক্তি সুস্থ, স্বাভাবিক, কর্মময় ও সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে।

এখানে বিভিন্ন পেশাজীবী, যাঁরা মানসিক রোগের চিকিৎসা করে থাকেন, তাঁদের কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে; যাতে করে একজন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে যে প্রয়োজনের সময় একজন মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে কার কাছে ও কোথায় যেতে হবে।

সাইকিয়াট্রিস্ট বা মানসিক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ সাধারণ চিকিৎসাবিদ্যা শেষ করে মানসিক রোগের চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ পড়াশোনা করেন, যার মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন মানসিক রোগ তা যত জটিলই হোক না কেন, তা নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করতে পারেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তাঁরা ব্যক্তির চিকিৎসার সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করেন এবং যদি প্রয়োজন হয় তবে ওষুধপত্র লিখে দেন। একজন সাইকিয়াট্রিস্ট ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। ব্যক্তির যদি ওষুধপত্রের সঙ্গে সাইকোথেরাপির প্রয়োজন হয়, তখন তাঁরা একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্টের কাছে যেতে বলেন।

রোগের সামান্য উপসর্গের ক্ষেত্রে অল্পদিনের জন্য চিকিৎসা হলেই যথেষ্ট। কিন্তু গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে মনোবিদ, মানসিক রোগের চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একত্রে মিলে চিকিৎসায় সাহায্য করেন

বিশেষ কিছু উপসর্গের ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হয়। যদিও ওষুধের প্রভাব নির্ভর করে রোগীর অসুখের মাত্রা এবং শারীরিক পরিস্থিতির ওপর। সাধারণত যে সমস্ত ওষুধ দেওয়া হয়, সেগুলো হলো :

·        অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট: মাঝারি বা গুরুতর ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির ক্ষেত্রে এই ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। এর থেকে কোনোরকম নেশা হয় না;

·        অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি মেডিকেশন: একে ট্র্যাংকুইলাইজারও বলা হয়ে থাকে। অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে এই ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। এটি মূলত উত্তেজনা কমাতে এবং ইনসমনিয়া বা নিদ্রাবিকারের সাথে লড়তে সাহায্য করে;

·        মুড-স্ট্যাবিলাইজিং মেডিকেশন: মুড ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে এই ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের নিয়ন্ত্রণে এটি সাহায্য করে। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে এটি উত্তেজনা ও অবসাদ, দুটিই নিয়ন্ত্রণে রাখে। সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসাতেও এটি কাজে লাগে;

·        অ্যান্টি-সাইকোটিক মেডিকেশন: একে নিউরোলেপটিক্সও বলা হয়। মুড সুইং, মানসিক বিভ্রম বা কল্পনা ও অবাস্তব চিন্তাভাবনার মতো উপসর্গের চিকিৎসায় এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

·       জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটসহ সরকারী মেডিকেল কলেজগুলোতে মানসিক রোগের প্রায় সকল ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

সবরকম ওষুধেরই কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। কেউ কেউ সেগুলো বুঝতে পারেন না, ফলে কোনো অসুবিধা হয় না। মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সাথে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-সম্পর্কিত একটি তথ্যপত্র দেওয়া থাকে।তবে মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারনাও রয়েছে। অন্যান্য রোগের ওষুধের মতই এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, আলাদা কওে খুব বেশি নয়।

কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উদাহরণ এখানে দেওয়া হলো:

·           ঘুম ঘুম ভাব ও জড়তা;

·           মোটা হয়ে যাওয়া;

·           কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ শুকনো হয়ে আসা

·           হাত পা, ঘাড়ের মাংশপেশী শক্ত হয়ে যাওয়া

·           লালা পড়া

·           ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা;

·           রক্তচাপ কমে যাওয়া;

·           নেতিবাচক প্রভাব, যেমন মনোযোগ ও উৎসাহের অভাব।

নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মাথায় রাখুন:

·           সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে ওষুধের লাভ অনেক বেশি। চিকিৎসকের নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময় অনুযায়ী ওষুধ খান;

·           নিয়মিত ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে যেতে পারে;

·           পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না কমলে চিকিৎসককে জানান। উনি আপনাকে সাহায্য করবেন;

·           চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না;

·           পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ওষুধকে ভয় পাবেন না, রোগ নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণের জন্য সচেষ্ট হোন;

·          মানসিক রোগের ওষুধ বা চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শের জন্য কেবল মাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন, চিকিৎসক নন এমন কারো কথায় ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।

সাইকিয়াট্রিস্টরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন; যেমন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (শেরেবাংলা নগর, ঢাকা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ, পাবনা মানসিক হাসপাতাল এবং সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়াও, তাঁরা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজ করে থাকেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে কর্মরত বেশকিছু সাইকিয়াট্রিস্ট বিভিন্ন ছুটির দিনে ঢাকার বাইরে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এ ধরনের নার্সরা সাধারণত মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের নার্সিং সেবা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। তারা মূলত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন যারা হাসপাতালে বা নির্দিষ্ট কমিউনিটিতে চিকিৎসা নেন। ওষুধ খাওয়ানো, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য পরিচর্যায় তারা সহায়তা দিয়ে থাকেন।

মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় সাইকোথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সেবার সাথে নানা ধরনের পেশাজীবী জড়িত থাকেন; যেমন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর, ইত্যাদি।

সাইকোথেরাপি প্রদানের নানা পন্থা আছে যার মাঝ থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা তাদের পছন্দের চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি বেছে নেন। নির্দিষ্ট ধরনের সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের সাইকোথেরাপি ভালো কাজ করে। তেমনি কিছু থেরাপি ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যায় থাকা বা জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট ব্যক্তিদের সেবায় প্রদান করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপিস্ট ব্যক্তির সাথে এককভাবে কথা বলেন। আবার কিছু থেরাপি দেয়া হয় দলীয় বা পারিবারিকভাবে।  বিভিন্ন ধরনের থেরাপিস্টদের কাজ সম্পর্কে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে।

সাইকোলজিতে অনার্স করে এরা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে এমএস, এমফিল বা ডক্টরেট ডিগ্রি নেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পরে তাঁরা মানসিক রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাঁরা রোগ নির্ণয় ও সাইকোথেরাপি দিতে পারেন, কিন্তু চিকিৎসার খাতিরে কোনো ওষুধ লিখতে বা বলতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তিনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে পারেন।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মূলত: কগনেটিভ বিহেভিয়ার থিরাপি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাঁরা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্যাটার্ন বা পুনঃ পুনঃ ঘটা বিষয়, যা ব্যক্তির চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণকে প্রভাবিত করছে তা নিয়ে কাজ করেন। এটা করতে গিয়ে তাঁরা রোগীর অতীত ও বর্তমান অভ্যাসগুলো নিয়ে কাজ করেন। রোগীর অবাস্তব ও ভ্রান্ত চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করে তার মধ্যে ইতিবাচক ও যুক্তিসম্মত চিন্তা আনতে সাহায্য করেন।এভাবে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট ব্যক্তির চিন্তার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ কওে তাঁর আচরনে দীর্ঘ মেয়াদী পরিবর্তন নিয়ে আসেন।

সাইকোলজিতে অনার্স করে এরা এডুকেশনাল এবং কাউন্সেলিং সাইকোলজিতে এমএস, এমফিল বা ডক্টরেট ডিগ্রি নেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পরে মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যায় আছেন অথবা দনৈন্দিন জীবনের নানা বিষয়ের সমস্যা মোকাবিলায় একজন মানুষকে সাহায্য করেন। তাঁরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ব্যক্তিকে কথা বলার মাধ্যমে সাহায্য করে থাকেন। ব্যক্তির বর্তমান সমস্যা, আচরণ ও অনুভূতি বিষয়ে কাজ করতে তাঁরা নানা প্রকার থেরাপি দিয়ে থাকেন। তাঁরা ব্যক্তির সাথে এককভাবে বা দলে কাজ করেন। 

একজন অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (ওটি) শারীরিক, মানসিক বা বিকাশজনিত প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করে থাকেন। অনেক সময় দায়িত্ব হিসেবে তাকে গুরুতর প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খাবার রান্না করা থেকে শুরু করে সব ধরনের দৈনন্দিন কাজ করতে হয়।

অনেক সময় যারা কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের কাজের সক্ষমতা ফিরে পেতে ওকুপেশনাল থেরাপিস্ট সাহায্য করেন। এ সেবার অংশ হিসেবে তারা রোগীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ দেয়া, চাকরি খুঁজতে সহায়তা করা, কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতে সহায়তা করা এবং তাদের জন্য সমন্বয়মূলক কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের নিয়োগদাতাদের সহায়তা করে থাকেন।

একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজসেবী মানুষকে তার মানসিক সমস্যাগুলোর সাথে জড়িত জীবনের বা সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সাহায্য করেন। একজন রোগীর সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং জীবনধারায় নানা সমস্যা হতে পারে। একজন সমাজসেবী সেই ব্যক্তিকে ওই সমস্যাগুলো থেকে বেরোতে সাহায্য করেন। তাঁদের নিয়মিত কাজগুলো হলো :

·        মানুষের অনুভূতিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা মানসিক চাহিদাগুলো বোঝা;

·        রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে বোঝানো এবং তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা;

·        রোগীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝে তার জন্য কমিউনিটির পক্ষ থেকে সাহায্য নেওয়া;

·        রোগী, তার পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা;

·        রোগীদের কমিউনিটির অন্তর্গত করা;

·        রোগীদের পরিবার ও কমিউনিটির কাছে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা পালন করা;

·        রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য করা।

সেবা সমন্বয়কারী হচ্ছেন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা খাতের একজন পেশাজীবী যার দায়িত্ব হচ্ছে কেয়ার প্রোগ্রাম অ্যাপ্রোচের (সিপিএ) আওতায় সার্বিক সেবার তদারকি বা সমন্বয় করা। সিপিএ হচ্ছে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সেবাগ্রহণকারী ব্যক্তির চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগুনো হয়।

আরোগ্য একটি হোলিস্টিক প্রণালি। থেরাপি, ওষুধ ও চিকিৎসা ছাড়াও ব্যক্তির নিজের এবং তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সাহায্য এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তার সাথে এটাও মাথায়ে রাখা উচিত যে, প্রত্যেক মানুষ একে অপরের থেকে আলাদা। তাই তাদের সবরকম অবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার উপায়ও ভিন্ন ভিন্ন। একেকজন মানুষের অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে আলাদা সময় লাগে।

যখন কোনো ব্যক্তি সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না, তখন তাকে কাছের মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসময় পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের দায়িত্ব এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয় যে, তা একজন রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। একইভাবে যারা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগে ভুগছে, তাদের পরিচর্যার জন্য পরিবারের সদস্যদের সাহায্যই একমাত্র ভরসা।

মানসিক রোগীর পরিচর্যাকারীর নিজের শারীরিক ও মানসিক জোর থাকা খুব জরুরি। এ ছাড়া, মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা ও কোথায় কী ধরনের সাহায্য পাওয়া যায় তা জানাও জরুরি। এর সাথে তার ভূমিকা, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতাও বোঝা প্রয়োজন। পরিচর্যাকারীর নিজের মনের ও শরীরের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সাহায্য নেওয়া খুব জরুরি।

আপনার মানসিক স্বাস্থ্য কোন অবস্থায় আছে তা বোঝার জন্য আপনি একজন মনোচিকিৎসক বা মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে পারেন। তারা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যবস্থার একটি বিশদ মূল্যায়ন করবেন। এই। মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হ'ল আপনার প্রয়োজনগুলির একটি সঠিক চিত্র তৈরি করা।

মূল্যায়নের সময়, সাধারনত: নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয় (যেখানে যেটি প্রাসঙ্গিক):
  •          আপনার বয়স ও পেশা
  •         আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা
  •          আপনার অনুভূতি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণ
  •          আপনার শারীরিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা
  •          আপনার আবাসন ও আর্থিক পরিস্থিতি
  •          আপনার কর্মসংস্থান
  •          আপনার সামাজিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক
  •          আপনার লিঙ্গ এবং যৌনতা
  •          ড্রাগ বা অ্যালকোহল ব্যবহার
  •          অতীত অভিজ্ঞতা, বিশেষত অনুরূপ সমস্যার
  •          আপনার উপর নির্ভর করে এমন কি কেউ আছে যেমন শিশু বা বয়স্ক আত্মীয়
  •         ইদানিং কালে মানসিক আঘাত পেয়েছেন এমন কোন ঘটনা আছে কিনা যেমন আপনার আপন কেউ মারা গ্যাছেন কিনা, আপনি চাকুরী হারিয়েছেন কিনা, আপনার কোন সম্পর্ক ভেঙ্গে গ্যাছে কিনা, যৌন নির্যাতন, বুলিং বা এমন কোন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কিনা ইত্যাদি 
  •       · আপনার শক্তি এবং দক্ষতা এবং সঙ্কট উত্তরনে কী আপনাকে সব থেকে বেশী সাহায্য করে
  •          ভবিষ্যতের জন্য আপনার আশা এবং আকাঙ্ক্ষা
  •         আপনি যে বিষয়ে কথা বলতে চান তা কেবল আপনাকে নির্ধারন করতে হবে ও তা খোলামনে প্রকাশ করতে হবে।

Counseling Services

Perhaps you have been thinking about having counseling for a while. Some days you feel really low and feel like you need to speak to someone as soon as possible. Then the next day you feel OK and the thought of ringing a counselor goes away. But the issues that made you feel low are still there and you inevitably feel worse again in a few days’ time.

What stops you from biting the bullet and making an appointment? Feeling apprehensive about seeing a counselor for the first time is common. Also, it can be hard to accept you might need help. Asking for help can make the problem seem more real: you can’t pretend it’s all OK so easily.

Counseling might be beneficial for you if:
Counseling can help you reflect and make sense of difficult life events and find a way to move forward. Some of the benefits are:

If you’re still not sure, the best way for things to become clearer is to book an initial session with a counselor. That way you can find out more about how counseling works and the counselor can help you decide if it would be useful for your particular situation.